Summary
জন্মের গুরুত্ব ও কর্মের প্রভাব
মানুষের জন্ম যেখানে হোক না কেন, তার কাজই তার পরিচয় নির্ধারণ করে। মৃত্যুর পর মানুষের ভালো-মন্দ সব কাজ সমূহই স্মরণে থাকে। কাজ যদি ভালো হয়, তাহলে তা দীর্ঘকাল ধরে মনে রাখা হয়, আর খারাপ হলে নিন্দা হয়।
বংশের মর্যাদার উপর কর্মের সুনাম বা দুর্নাম নির্ভর করে। কেউ একজন সুনাম অর্জন করলে সেই বংশের মর্যাদা বাড়ে, কিন্তু যদি বংশে কেউ খারাপ হয়ে যায়, তাহলে তা মর্যাদা কমায়।
অনেকে সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও কাজের মাধ্যমে অমর হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এবং কাজী নজরুল ইসলাম, যাঁরা বংশ পরিচয়ের পরিবর্তে তাদের কর্মের জন্য পরিচিত হয়েছেন।
সুতরাং, মানুষের পরিচয় তার বংশ নয়, বরং তার নিজেদের কর্ম ও সুকৃতির উপরে নির্ভর করে।
জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো।
ভাব-সম্প্রসারণ: কর্মের দ্বারাই মানুষ পৃথিবীর বুকে সম্মান ও প্রতিষ্ঠা পায়। কোনো মানুষের জন্ম যে বংশেই হোক না কেন, কাজই তার পরিচয় নির্ধারণ করে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। তখন পিছনে পড়ে থাকে তার ভালো-মন্দ সব ধরনের কাজ। কাজ ভালো হলে বহু কাল যাবৎ মানুষ তা মনে রাখে। আর কাজ খারাপ হলে যুগ যুগ ধরে সকলে তার নিন্দা করে। বংশমর্যাদার উপরে এইসব সুনাম বা দুর্নাম নির্ভর করে না। বংশে কেউ একজন সুনাম করলে সেই বংশের মর্যাদা বাড়ে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, এই মর্যাদা চিরস্থায়ী। কেননা, একই বংশে কোনো কুলাঙ্গার জন্ম নিলে সেই মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হতে পারে। আবার, অনেকে খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও নিজ নিজ কৃতিত্বের জন্য পৃথিবীতে অমর হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেছেন দরিদ্র পরিবারে। এ দুজন ব্যক্তি বংশ পরিচয়ে নয়, বরং কর্ম দ্বারা মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছেন।
মানুষের পরিচয় কখনোই তার বংশ বা পরিবারের মর্যাদা-অমর্যাদার উপর নির্ভর করে না - নির্ভর করে তার নিজ নিজ কর্ম ও সুকৃতির উপর। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, মানবসেবা পছন্দসই যে কোনো ক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে উৎসর্গ করে অমর হতে পারে।
Read more